কবিতা বিশেষ সংখ্যা

প্রেমের কবিতা | বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় | কবিতাগুচ্ছ | শারদীয় সংখ্যা

বদলে যাওয়ার কাছে

কার কথা সে বলেছিল, দেখিয়েছিল কাকে
বাইক চালানোর সময়ে আমি যখন ভাবি
হাওয়া তখন সবাইকে ছোঁয়, কাউকেই না ছুঁয়ে
বদলে যাওয়ার কাছে হাওয়ার একটুও নেই দাবি

পাথরে যে পাহাড় থাকে, পাহাড়ে যে অর্কিড
অর্কিডে যে রঙের বিলাস আবির হতে চায়
তাদের অসংযমে আমি সংযমেরও ঠোঁটে
দিয়েছি সেই আদর যাকে চুমুও ভয় পায়

ছোট হয়ে ছিলাম কারণ মুখাগ্নির মুখে
ইতিউতি সবাই ভীষণ বড়কে খোঁজ করে
‘ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকবেন না প্লিজ’
এইটুকুই বলতে পারি জেরার উত্তরে

জেলে যদি না নেয় ফিরে আসব স্টেশনেই
আটকে থাকা ট্রেন মরুকগে, যে ট্রেন ছাড়া পায়
সত্যি মনে হয়গো তার জানলা থেকে তুমি
সে লোকটাকে খুঁজছ, যাকে হাওয়ায় ছোঁয়া যায়…

বিনা বাধায়

জড়িয়ে যাবার একটা সুতোয়
সরিয়ে দেবার হাজার ছুতোয়
বিকেলবেলার লম্বা ছায়ায়
ক্যারাম খেলার অল্প মায়ায়
গল্প যখন হল না শেষ
ঘুমের পরও ঘুমের আবেশ
রইল মিশে জাগরণে,
শরীর নিজের মনে মনে
কাজ করে যাক বিনা বাধায়
সংস্কৃতিকে বাঁধুক ধাঁধায়
ভূগোল হয়ে যোগাক তথ্য
যা অসত্য, যা অকথ্য
সে ইতিহাস ধুয়ে মুছে
বাড়ুক, সেরে ওঠার পথ্য

খেয়ে আবার ঘুমিয়ে যাব
ও আংটি, তোমায় হারাব
চিনতে যেন না পারে কেউ
পিছু নেওয়া সহস্র ফেউ
ছুটন্ত সিংহের কাছে যাক
সে বিস্মৃতি আমায় বাঁচাক
যে বিস্মৃতির একতারাতে
তুমি এসে আমার হাতে
দিয়েছিলে নুন আর চিনি
বাজিয়েছিলে ওই রাগিণী
যেখানে জল মাখোমাখো
হয়ে পোড়ায় সকল সাঁকো
পুড়ে যদি না থাকি তাও
ঘুরে এসো; দূরে থাকো।

জিভের নীচে যে প্রার্থনা

আকাশ ভয়ে কাঁপছে, ওকে একটা জ্যাকেট দাও
জিভের নীচে যে প্রার্থনা, তাকেও শুনে যাও
আগুন, বাতাস না পেলে পর ঊর্ধ্বে ওঠে আরও
আমি তোমায় জড়িয়ে ধরব, তুমি আমায় ছাড়ো

ছাড়ো মানে ধরে থাকো, আমার মতো করে
শঙ্করী শঙ্কাহীন হয়ে মিশছেন শঙ্করে
এ দৃশ্য তো সরল, এতে কোথায় পেলে জটা
কারণ অকারণে এত ঘোরের ঘনঘটা
ভাল্লাগে না, মোদ্দা কথা, কে কার পাশে শোয়
ধুলোঝড়ের ধুলো আমায় এমনভাবে ছোঁয়
যেন নিজে বৃষ্টি এবং আমি নেহাত অন্ধ
বস্তুর দ্বন্দ্ব নয় বাবু, এই অন্তর্দ্বন্দ্ব—

ঘরের মধ্যে বাজার বসায়, গঙ্গাকে দেয় চর
প্রসব যন্ত্রণার ভিতরও অর্ধনারীশ্বর
মুক্তমালা গলায় নিয়ে ঝিনুক পেতে চায়
স্বাধীনতার স্বপ্নে স্বপ্নে অনাথ হয়ে যায়…

পঙ্গপালের কাছে

প্রেমের পদ্যে কৃষ্ণ বার্তা
ঘৃণার গদ্যে কংস
পঙ্গপালের প্রজাতন্ত্রে
মরেছে রাজহংস

আসলে সে মরেনি, স্রেফ
জল হয়েছে কাদা
মাটির খোঁজে কলসি কাঁখে
মিলিয়ে গেছে রাধা

গ্রামের পরে গ্রামে, কারা
খোঁজ করেছে তার
খুঁজতে খুঁজতে গঞ্জে এসে
সাজাচ্ছে সংসার

বাইরে থেকে দেখলে পরে
সেখানে সব ভাল
ভিতরে পা যেই না রাখা
অশান্তি কামড়াল

ফিনকি দিয়ে উঠল ধারা
নিমকি দিল প্লেটে
মোছার পরে ভুলে গেলাম
কী লিখেছি স্লেটে

কেবলমাত্র একটা কান্না
কথার ভিতর আছে
তোমায় ফেলে এসেছিলাম
পঙ্গপালের কাছে।

উদ্বোধন

চাকরি যদি না করি আর, বলি আমার পেশা
স্কটল্যান্ডের জলে মেশায় বাগবাজারের নেশা?

মিষ্টি কোনও স্রোতের ভিতর ধোঁয়া যখন ছোটে
দাঁতের ভিতর আপেলগুলো বদলায় আখরোটে

ঘড়ির মাথা মুড়িয়ে স্মৃতি সমুখে দেয় হাঁটা
শজারু তার শরীর ভুলে হয়ে ওঠেন কাঁটা
এবং কাঁটা ফুলকে এনে বসায় মুখোমুখি
অপূর্ণতায় দুঃখী লোকে, অপূর্ণতায় সুখী

প্রত্যাখ্যান গলায় নিয়ে দাঁড়ায় স্বয়ম্বরে
রামধনু তার ধনুক দিয়ে পারলে নকল করে
এমন দুটো ঠোঁটের সামনে কীসের কথকতা?
কিন্তু আমার অসুন্দরের এমনই মত্ততা

দুর্ভিক্ষের ভিতর ভিক্ষে করতে পাঠায় ভোরে
মাগো, আমি বেসুর-বেতাল, দাঁড়াব কার দোরে?
কোন ভোলাকে বলব ঝোলার ভিতরে নেই গান
অপমানেও সামলে রাখব একটু অভিমান..

না পড়ে বেদ- উপনিষদ, হারিয়ে ফেলে গীতা
তোমার চোখে, তোমায় কবে দেখব নিবেদিতা?

    Leave feedback about this

    • Rating

    PROS

    +
    Add Field

    CONS

    +
    Add Field
    X