গদ্য বিশেষ সংখ্যা

শেখ হাসিনা : যাঁর জন্ম হয় বারবার | মহসীন হাবিব | জন্মদিন | বিশেষ সংখ্যা | গদ্য

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী কবি ও মানবাধিকার কর্মী মায়া আঞ্জেলু তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘স্টিল আই রাইজ’-এর শুরুতে লিখেছেন –

You may write me down in history
With your bitter, twisted lies,
You may trod me in the very dirt
But still, like dust, I’ll rise.

শেষ দিকে লিখেছেন :

Leaving behind nights of terror and fear
I rise
Into a daybreak that’s wondrously clear
I rise
Bringing the gifts that my ancestors gave,
I am the dream and the hope of the slave.
I rise
I rise
I rise.

এ যেন শেখ হাসিনারই কথা। যতই চেষ্টা করা হোক, যতই বিকৃত করা হোক ইতিহাস, যতই গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হোক না কেন, যতই আঘাত আসুক না কেন – তিনি স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন বারবার। তিনি বারবার ভয়ার্ত রাত পেছনে ফেলে জেগে উঠেছেন। এসব কোনো স্তূতিবাক্য নয়, ঘটনা প্রবাহের দিকে নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে তাকালে যে কেউ এর সত্যতা খুঁজে পাবেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ নিহত হওয়ার সময় তার দুই কন্যা বলা যায় কাকতালীয়ভাবেই বেঁচে যান। তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার কর্মস্থলে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি ও শেখ রেহানা। সে কাহিনি অল্প-বিস্তর সকলেরই জানা। পরিবারের সকলকে হারিয়ে তিনি ইন্দিরা গান্ধীর আয়োজনে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তখন বাংলাদেশে চলছে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করে ক্ষুদ্র দল বানানোর রাজনৈতিক প্রচেষ্টা। এমন পরিস্থিতিতে ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করে দেশে ফিরিয়ে আনেন আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান নেতারা। ঠিক তখন থেকেই শেখ হাসিনার পেছনে সত্যি সত্যিই বুলেট তাড়া করতে থাকে, যা আজো অব্যাহত আছে। জাতির নিশ্চয়ই মনে আছে, ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মিছিলে তখনকার পুলিশ ও বিডিআর নির্বিচারে গুলি চালায়। কিন্তু শেখ হাসিনাকে হত্যা করা যায়নি। তিনি অল্পের জন্য বেঁচে যান। সে ঘটনায় ৯ জন কর্মী নিহত হন। ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনের সময় তৎকালীন বিএনপি সরকারের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে এবারেও তিনি বেঁচে যান। ১৯৯৩ সালে ২৪ জানুয়ারি আবার ওই চট্টগ্রামেই শেখ হাসিনার সভায় গুলি ও বোমা হামলা চালানো হয়। সেই ঘটনায় ৫০ জনের বেশি আহত হয়। ১৯৯৪ সালে ঈশ্বরদি ও নাটোরে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে জন্য যাত্রাকালে তাঁকে হত্যার উদ্দেশে গুলি ও বোমা হামলা চালানো হয়। ব্যাপক সেই হামলায় শতাধিক লোক আহত হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা ঠিকই বেঁচে যান। এ ছাড়াও আরো প্রায় এক ডজেন ছোট বড় হামলার শিকার হন শেখ হাসিনা। এরপর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি জামাত সরকারের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল যেন এমন, ‘এবার শেখ হাসিনাকে শেষ করতেই হবে।’ সে কী বিভৎস হামলা! ইতিহাসে বিরোধী দলের কর্মসূচির উপর এমন ভয়াবহ হামলার ঘটনা কোনো দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেদিনও শেখ হাসিনা কাকতালীয়ভাবে প্রাণে বেঁচে যান। তাঁর একনিষ্ঠ কর্মীরা তাকে নিজেদের দেহ দিয়ে মানব ঢাল তৈরি করে রক্ষা করেন। তারপরও ধৈর্যহারা হননি তিনি। ক্ষমতায় এসেছেন এবং প্রায় ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন। আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি বিচার কাজ চলতে দিয়েছেন। যারা এই হামলার নেপথ্যে ছিল তাদের কাউকে তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যার সম্মুখীন করেননি।

ব্যক্তি শেখ হাসিনার দিকে তাকালে অনেক অলিখিত অসাধারণত্বের দেখা পাই আমরা। ছোটবেলা থেকে শেখ হাসিনার অসংখ্য ছবি আছে। এখন সেগুলো প্রায় সবই ইন্টারনেটে। তার প্রতিটি ছবির পোশাক, মুখের অভিব্যক্তি বলে দেয়, তিনি সাধারণ বাঙালি রমণীর প্রতিভূ। একটি দেশ যখন রসাতলে যায় তখন তেল আর ঘিয়ের দামে পার্থক্য থাকে না। মানুষের মধ্যে ভালো-মন্দ বিচারের ক্ষমতা লোপ পায়। তাই আজ শেখ হাসিনার মতো অসাধারণ এক নারীকে অতি সাধারণ নারীর কাতারে এনে দাঁড় করানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এটা একটি জাতির জন্য বড়ই দুর্ভাগ্য যে তাদের অনেকেই চিটা এবং চালের পার্থক্য ভুলে গেছেন।

এই নারী একদিকে যেমন নিজের পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করে চলেছেন, অন্যদিকে তিনি মায়ের দায়িত্বও পালন করে চলেছেন। অত্যন্ত সুরসিক শেখ হাসিনা যে ভালো পাঠক সেকথা অনেকেই জানেন। ভীষণ বিদ্যানুরাগী এই বঙ্গবন্ধু তনয়া।

শেখ হাসিনা ছাইয়ের থেকে, ধুলোর থেকে উঠে আসতে জানেন। এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তিনি পেয়েছেন জিনগতভাবে, যা ঔরসজাত। তাই একথা সকলকে মনে রাখতে হবে, শেখ হাসিনা গ্রিক পুরাণের ফিনিক্স পাখির মতো বারবার উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রাখেন। ভবিষ্যত নির্বাচনে কী হবে, কারা ক্ষমতায় আসবে তা জানা না গেলেও একথা সকলকেই মানতে হবে যে, শেখ হাসিনা হেরে যাওয়ার মানুষ নন। তিনি বারবার উঠে দাঁড়াতে জানেন।

৭৭তম জন্মদিনে অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি।

লেখক : সাংবাদিক ও লেখক।

    Leave feedback about this

    • Rating

    PROS

    +
    Add Field

    CONS

    +
    Add Field
    X