বই বইপত্র

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিবেদিত কবিতা | কামাল চৌধুরী | সম্পাদকীয় | বইপত্র

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৯২০-১৯৭৫) বাঙালির ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান। বাঙালির সম্মিলিত সংবেদনে জাতীয়তাবোধ ও স্বাধীনতার চেতনা সঞ্চারে তিনি পালন করেছেন ঐতিহাসিক ভূমিকা। গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ, শোষণমুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং বাঙালির মুক্তির স্বপ্ন – এইসব বৈশিষ্ট্যই বঙ্গবন্ধুর জাতীয়তাবাদী ভাবনার সারকথা। জনগণ এবং দেশের স্বার্থ তিনি নিজের মধ্যে একাত্ম করতে পেরেছিলেন অবলীলায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাঙালি মিলিত হতে পেরেছিল এক মোহনায়। তাঁর জীবন ও কর্মের ক্রমিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-আন্দোলনের সামগ্রিক চিত্র দৃশ্যমান হয়। তাই বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ আজ অভিন্ন অর্থে ও তাৎপর্যে একাত্ম।

বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছেন। চেয়েছেন বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। আজীবন তিনি শোষিত মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন, সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। শোষিত মানুষের পক্ষে এই নির্ভীক অবস্থানের কারণে বঙ্গবন্ধু কেবল বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বসমাজেও অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণ পৃথিবীর ইতিহাসে রাজনৈতিক কবিতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। ৭ই মার্চের অনলবর্ষী ভাষণে তিনি উচ্চারণ করেছিলেন বাঙালির মুক্তির মন্ত্র – নির্দেশনা দিয়েছিলেন স্বাধীনতার। এই ভাষণের প্রতিটি বাক্যে জড়িয়ে আছে অভাবনীয় আবেগ, স্পষ্ট আদেশ ও স্বাধীনতার নির্দেশনা – যার বজ্রনিনাদ জাতির অন্তরে। বিশ্বমিডিয়া এজন্য তাকে আখ্যা দেয় ‘পোয়েট অব পলিটিক্স’ হিসেবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে তিনি ছিলেন জাতির একমাত্র প্রতীক। তাঁর ভাষণ ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণার উৎস।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সংঘটিত নৃশংস ও ঘৃণ্যতম ঘটনাবলির অভিঘাত বাঙালির জনমানসে, বিশেষত ‘৭৫-পরবর্তী প্রজন্মের মনোজগতে গভীরভাবে রেখাপাত করে আছে। তাদের স্মৃতিজগতে মিশে আছে প্রতিকূল এক সময়ের চিত্র, কারণ তখন এই দেশে জাতির পিতার নাম উচ্চারণ করা যেত না। করলে তা ছিল দেশদ্রোহিতার শামিল। যারা তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, তাদের যাতে শাস্তি না দেওয়া যায় সেজন্য ঘাতক খোন্দকার মোশতাক সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে। ষড়যন্ত্রকারীদের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় তখন চলেছে বাঙালির স্মৃতিসত্তা ও ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার সর্বাত্মক অপচেষ্টা। যিনি এই স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তিস্থাপনের মূল স্থপত্তি – তাঁর যেন কোনো অস্তিত্ব নেই, যেন বাঙালির কোনো অতীত নেই, বর্তমান নেই। পঁচাত্তরের ঘাতক ও একাত্তরের পরাজিত শক্তির হত্যা, নির্যাতন ও উল্লাসের সেই ভয়াবহ দিনগুলো আমাদের ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায়।

কিন্তু যিনি মিশে আছেন বাংলার আলো হাওয়ায়, কাদামাটি জলে, রৌদ্র কিরণে, জোছনায়, ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যে। নদীমাতৃক বহমান জীবনধারায় তাঁর নাম কি মুছে ফেলা যায়? জীবিতকালে তিনি ছিলেন বিজয়ের মহানায়ক, মৃত্যুতে পরিণত হয়েছেন চিরন্তন শোকের প্রতীকে। তার প্রতিফলন আমরা তীব্রভাবে দেখি পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী আমাদের কবিদের সাহসী পঙক্তিতে। তাঁর মৃত্যুর পর কবিদের প্রতিবাদী কবিতায় বাঁকবদল ঘটে বাংলা কবিতার। বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠলেন বাংলা কবিতায় শোক, প্রতিবাদ ও শ্রদ্ধার চিরকালীন অনুষঙ্গ। প্রতিবাদী কবিতার মোহনায় যুক্ত হলেন অসংখ্য কবি – যার ধারা এখনো বহমান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এখন বাঙালি কবি-লেখকদের সৃজনশীলতায় চিরায়ত এক শিল্প-উপাদান। কেবল বাঙালি কবি-লেখক নন, পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষি কবি-লেখকও তাঁকে নিয়ে লিখেছেন, গবেষণা করেছেন এবং সেই ধারা এখনো চলছে। বর্তমান সংকলনে বাংলাদেশের প্রবীণ-নবীন ৩৬৩ জন কবির ৩৬৩টি কবিতা সংকলিত হয়েছে। সংকলিত কবিতাগুলো পাঠ করলে বাঙালি জনমানসের কতটা গভীরে বঙ্গবন্ধুর শেকড় প্রোথিত তার আভাস পাওয়া যাবে। পাঠকের চোখে ভেসে উঠবে বঙ্গবন্ধুর কৃতি ও জীবনসাধনা।

এসব কবিতার পঙক্তিতে পঙক্তিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। টুঙ্গিপাড়া, গিমাডাঙ্গার মাঠ, ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বর, রেসকোর্স ময়দান, ৭ই মার্চের ভাষণ, জুলুম-নির্যাতন, কারাভোগ, তাঁর লেখকসত্তা, স্বাধীনতার ঘোষণা, মধ্য-আগস্টের ট্র্যাজিডি, তাঁর উত্তরসূরি দুই আত্মজার জীবনসংগ্রাম—কী নেই এখানে! সবকিছু মিলে এই কবিতা সংকলনে পরিপূর্ণভাবে বিঘ্নিত হয়েছে তাঁর জীবনসাধনা, তাঁর কর্ম ও আত্মত্যাগ, সর্বোপরি বাঙালির জন্য তাঁর আত্মত্যাগের অসাধারণ মহিমা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উপজীব্য করে কয়েক হাজার কবিতা লেখা হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। পৃথিবীর ইতিহাসে এ দৃষ্টান্ত বিরল। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রায় সব কবি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন; কবিদের পাশাপাশি খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিকরাও তাঁকে নিয়ে কবিতা রচনা করেছেন। ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত কবিতাকে আমরা দু-পর্বে ভাগ করতে পারি। প্রথমত, ১৯৭৫-এর আগে লেখা বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনকেন্দ্রিক কবিতা এবং দ্বিতীয়ত, ১৯৭৫ সালে সপরিবারে তাঁর নির্মম হত্যাকাণ্ড পরবর্তী কবিতা।

বঙ্গবন্ধু-বিষয়ক সবচেয়ে পুরাতন যে-কবিতার সন্ধান পাওয়া যায়, সেটি রচিত হয় ১৯৫৮ সালের ১৭ই অক্টোবর। কবিতার লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ ছিলেন গোপালগঞ্জের সহকারী সার্ভে ইন্সপেক্টর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিবেদন করে রচিত তাঁর কবিতার কিছু অংশ পত্রে লিখে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়েছিলেন। মূল রচনাকাল ১৯৪৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর; বঙ্গবন্ধু তখন গোপালগঞ্জ কারাগারে বন্দি। কবিতাটি হলো :

“হে নির্ভীক হে বীর

ভীরুতাকে তুমি করিয়াছ জয়

সত্যেরে তুমি করিয়াছ আশ্রয়

পাষাণ বক্ষে বাঁধিয়াছ তব নীড়

হে সৈনীক, হে বীর ॥

হে বীর মোজাহেদ নওজোয়ান

তব সত্যের পথে হও আগুয়ান

কওমের তরে দাও জান কোরবান

হে বীর সেনানী নও জোয়ান ॥”

(সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দি ন্যাশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, পঞ্চম খণ্ড)

বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে-পরে অগ্রজ কবি-লেখকদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা অনেক কবিতা পাওয়া যায়। বাঙালি জাতিসত্তার জাগরণে তাঁর সাহসী নেতৃত্ব ছিল এসব রচনার মূল উপজীব্য। সত্তরে, আমরা দেখি শোক ও প্রতিবাদের কবিতা – যা বাংলা কবিতার বাঁকবদলের চিত্রধারণ করে আছে। আশি ও নব্বইয়ের দশকের উল্লেখযোগ্য কবিরাসহ সমকালীন এবং তরুণ প্রজন্মের কবিদের অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন। বাংলার কবিগণ তাদের মনের মণিকোঠায় স্থান দিয়েছেন তাঁকে। কেন তিনি বাঙালি জাতির পিতা, কেন তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, সেই প্রসঙ্গও এই সময়ের কবিরা তাঁদের কবিতায় তুলে ধরেছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে লিখিত বেশকিছু কবিতা গ্রন্থিত হয়েছে এই সংকলনে। পাকিস্তান আমলে ও মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এবং বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বরণের পর যারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন, তাঁদের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করতে হয়। ভয়ভীতি তুচ্ছ করে তাঁরা জাতির পিতাকে স্মরণ করেছেন, প্রতিবাদ করেছেন। পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট-পরবর্তী সময়ে রচিত কবিতায় বঙ্গবন্ধু একদিকে যেমন বাঙালি কবি-সাহিত্যিকদের কাছে চিরন্তন শোকের প্রতীক হয়ে উঠেছেন, অন্যদিকে তেমনই সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করার মৃত্যুঞ্জয়ী প্রেরণার অবিনাশী উৎসও ছিলেন তিনি। বললে অত্যুক্তি হবে না যে, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী, পঁচাত্তরের ঘাতক-স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে পঁচাত্তর-পরবর্তী যে-রাজনৈতিক জাগরণ তাতে এসব প্রতিবাদী কবিতার ভূমিকাই ছিল সর্বাগ্রগণ্য। সশস্ত্র ঘাতকের নজিরবিহীন নৃশংসতায় রুদ্ধবাক রাজনীতিকে জাগরণীমন্ত্রে উজ্জীবিত করেছে কবিতা। বাংলাদেশের কবিতার সেই সঞ্জীবনী ধারা এখনো স্বমহিমায় বহমান। অতএব, পঁচাত্তর-পরবর্তী প্রতিবাদী ইতিহাসকে বোঝার ক্ষেত্রেও এই কবিতা সংকলনের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৭ই মার্চ ১৯২০ সালে টুঙ্গিপাড়া গ্রামে (বর্তমানে উপজেলা)। ২০২০-২০২২ সালে আমরা পালন করছি তাঁর জন্মশতবর্ষ। যুগপৎ উদ্‌যাপন করছি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, যে-স্বাধীনতা তাঁর নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছে। সংকলনটি প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রবীণ ও নবীন কবিরা তাঁদের মননে বঙ্গবন্ধুকে কীভাবে ধারণ করেছেন এবং তাঁর সংগ্রামী জীবন ও আত্মবিসর্জন তাদের চেতনালোকে যে গভীর ছাপ ফেলেছে তারই সামষ্টিক উপস্থাপন ।

এ কবিতাসংগ্রহে মূলত প্রকাশিত গ্রন্থ, পত্রপত্রিকা, সংকলন ও সাময়িকী থেকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা ও প্রকাশিত কবিতাগুলো খুঁজে বের করে গ্রন্থভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকাশনার জন্য কবিতা সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশে বহু কবি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অসংখ্য কবিতা রচনা করেছেন। এই সকল কবিতা সংগ্ৰহ করে গ্রন্থিত করা দুরূহ কাজ। তারপরও টানা কয়েক মাস ধরে এ বিষয়ের ওপর কাজ করে এটি প্রস্তুত করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রবীণ কবিদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কবিদের লেখায় বঙ্গবন্ধু বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। এই সংকলনে শতাধিক একেবারেই নতুন প্রজন্মের কবির কবিতা গ্রন্থিত হয়েছে। লেখাগুলো পড়লে বোঝা যায়, নতুন প্রজন্মের কাছেও বঙ্গবন্ধু কতটা প্রেরণাসঞ্চারী ও প্রাসঙ্গিক। তা ছাড়া বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন অনুষঙ্গ যেমন ৭ই মার্চ, ১০ই জানুয়ারি, ৬ দফা ইত্যাদি বিষয় যেমন এসেছে, তেমনই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রচুর শোকগাথাও রচিত হয়েছে। দেখা গেছে, অনেক কবি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একাধিক কবিতা লিখেছেন। সংকলনের সীমিত পরিসর বিবেচনায় তাঁদের একটি করে কবিতা এই সংকলনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে কবিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে চেষ্টা করা হয়েছে প্রবীণ কবিদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের তরুণ কবিদের রচনা যতটা সম্ভব স্থান দেওয়ার। নবীন কবিদের ভাবনায় বঙ্গবন্ধু কীভাবে রেখাপাত করেছেন কিংবা তাঁরা কীভাবে বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করেন, এতে তার প্রতিফলন দেখা যাবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সকল প্রকাশনা কাজে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থন ও উৎসাহ ছিল আমাদের বিশেষ অনুপ্রেরণা। এ সংকলনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানার একটি কবিতা অন্তর্ভুক্ত করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এ কবিতায় পিতার প্রতি সন্তানের আকুলতা গভীর আবেগে প্রতিফলিত।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, সংকলনের সংখ্যাও কম নয়। আমরা সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কবিতা বাছাই করেছি। সংকলনে গ্রন্থিত কবিতার কবিদের সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি; অনেকের কবিতা পত্রপত্রিকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলোর উৎসও আমাদের সংগ্রহে রয়েছে। যথাসম্ভব চেষ্টা করা হয়েছে লেখাগুলোতে শুদ্ধপাঠ অনুসরণ করার। কবিতা সংকলনে যথেষ্ট নিষ্ঠা ও নিরন্তর পরিশ্রম দিয়ে পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতে কাজ করেছেন রিয়াজ আহমেদ (অধ্যাপক বিসিএস শিক্ষা), সহযোগিতা করেছেন স্নিগ্ধা বাউল (সহকারী অধ্যাপক, বিসিএস শিক্ষা), দিপন দেবনাথ (সিনিয়র সহকারী সচিব) এবং ফারহান ইশরাক (উপপরিচালক, বাংলা একাডেমি)। সম্পাদকমণ্ডলীর অন্যতম বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক খ্যাতিমান কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, বিশিষ্ট কবি মিনার মনসুর ও বিশিষ্ট কবি তারিক সুজাত কবিতাগুলো বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ও সম্পাদনায় বিশেষ সহায়তা করেছেন।

আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও অনিচ্ছাকৃত কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি হয়তো থেকে গেছে। বানানের ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির বানানরীতি অনুসরণ করা হয়েছে। তবে ছন্দমাত্রার বিবেচনায় কিছু ক্ষেত্রে লেখক-অনুসৃত বানান রাখা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি সর্বাঙ্গসুন্দর করে এটি প্রকাশ করতে।

মুজিববর্ষে এই সংকলন প্রকাশ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও সাধনা উপলব্ধির ক্ষেত্রে এই কবিতা সংকলন পাঠকচিত্তে নতুন সংবেদনা সৃষ্টি করবে বলে আমাদের বিশ্বাস

বাঙালির সৃজনশীলতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চিরন্তন প্রেরণার উৎস হিসেবে মিশে আছেন। এ সংকলনের পঙক্তিমালায় জাতির পিতার প্রতি প্রবীণ ও নবীন কবিদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ যেমন ঘটেছে, তেমনই কবিতায় উঠে এসেছে বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্য। আমাদের বিশ্বাস আগামী দিনের কবিরা এ থেকে বঙ্গবন্ধুকে জানতে ও উপলব্ধি করতে পারবেন। তাঁদের কবিতায়ও উচ্চারিত হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মহিমা।

জানুয়ারি, ২০২২

(ঈষৎ সংক্ষেপিত)

উৎস

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিবেদিত কবিতা, সম্পাদক কামাল চৌধুরী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি, ২০২২

    Leave feedback about this

    • Rating

    PROS

    +
    Add Field

    CONS

    +
    Add Field
    X