সাক্ষাৎকার

ইউভাল নোয়াহ হারারির সাক্ষাৎকার | ‘সোস্যাল মিডিয়া ঈশ্বরে পরিণত হবে’ | ভাষান্তর : সুশান্ত বর্মণ

সমকালের প্রখ্যাত দার্শনিক ইউভাল নোয়াহ হারারি। তাঁর পাঠকনন্দিত ’স্যাপিয়েন্স’ বইতে মানুষের ৭০,০০০ বৎসর আগের অতীত থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎকে তুলে ধরা হয়েছে। ওই গ্রন্থের উপর এবং ভবিষ্যতের পৃথিবী নিয়ে তাঁর এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন এলান ফিলিপস। হারারি তাকে বলেন, ইন্টারনেট প্রযুক্তি হতে চলেছে আগামী দিনের পৃথিবীর নিয়ন্ত্রক।

>> আপনি মধ্যযুগের সামরিক ইতিহাসের কয়েকটি অস্পষ্ট দিক নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজ করছেন। হোমো সেপিয়েন্সের বির্বতনের মতো ব্যাপক বিষয়ের দিকে আপনাকে কে ঠেলে দিয়েছে?
> প্রথমত আমি বুঝতে পেরেছি যে মানবজাতি হয়তো ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বর্পূণ সিদ্ধান্তটি নিতে যাচ্ছে। পূর্ববর্তী চারশত কোটি বৎসর ধরে এই পৃথিবী প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে। জীবনের প্রাথমিক নিয়মগুলি পরিবর্তন করে বিজ্ঞান আমাদেরকে এক নতুন ধরনের বিবর্তনের সুযোগ দিয়েছে। ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনের পরিকল্পিত বিবর্তন হবে এটা। এবং দ্বিতীয়ত, বিজ্ঞান আমাদেরকে অজৈব জীবন যাপনের সুযোগ করে দিচ্ছে। এই দুটো বিষয় মিলে, প্রাকৃতিক নির্বাচন থেকে বৌদ্ধিক কাঠামোর দিকে এবং জৈব থেকে অজৈব জীবনের দিকে ঝুঁকে পড়ার ঘটনা প্রাণের ইতিহাসে এক মহাবিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছে। এই সম্ভাবনাকে সফলভাবে গ্রহণ করার দায় সম্পূর্ণ আমাদের। এর জন্য বিশ্বজগতে আমরা কোথায় থেকে এসেছি এবং মহাবিশ্বের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের অবস্থান আরও ভাল করে উপলব্ধি করা প্রয়োজন।

>> আমাদের প্রজাতির ক্ষেত্রে এসবের মানে কী দাঁড়ায়?
> বিশ শতক হল এমন একটা শতক যা মানুষের বিভিন্ন গোষ্ঠীর পরস্পরের মধ্যেকার শূন্যতা দূর করার সময়। নারী-পুরুষ, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, সামাজিক সংগঠন প্রভৃতি মানবগোষ্ঠীর পরস্পরের মধ্যেকার দূরত্ব দূর করার কাজ হয়েছে। মানবসমাজে সবচেয়ে মূল্যবান বলে বিবেচিত হয়েছে সমতার ধারণা। আমরা এমন ভাবতে অভ্যস্ত হয়েছি যে সময়ান্তরে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, যেমন ইউরোপ ও আফ্রিকা, নারী ও পুরুষ, উচ্চশ্রেণি ও নিম্নশ্রেণির মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ দূর হয়ে আরও সমতা বিধান হবে। ইতিহাসে দেখা গেছে যে, ধনী ও গরীবের মধ্যে পার্থক্য হল মূলত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক। রাজা ও প্রজার মধ্যে শারীরিক ও বুদ্ধিগত কোন সত্যিকারের পার্থক্য ছিল না। কিন্তু এখন বায়োটেকনোলজির বিকাশ ধনীদের আরও সপ্রতিভ, আরও সৃষ্টিশীল এবং আরও সাহসী হবার সুযোগ করে দেবে। হুবহু এরকম ঘটবে তা ঠিক না জানি না, কিন্তু কয়েক যুগ আগেও ভাবা যেত না এমন কিছুর সম্ভাবনা এখন অনেক বেশি।

>> আপনি ’জাত’ শব্দ দিয়ে কি বোঝাতে চাচ্ছেন? এর বৈশিষ্ট্যগুলো কি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত নাকি যাপিত জীবনের বিনিময়ে অর্জিত হত?
> আপনি এসব কিনতে পারেন, নিজের এবং সন্তানদের জন্য টাকার মালিক হতে হলে আপনাকে সঠিক পরিবারে জন্ম নিতে হত। জীবনের প্রারম্ভিক সময়ে এই পদক্ষেপটা নেয়া সহজ। যখন তিনি একটি কোষ ছিলেন তখনকার চাইতে চল্লিশ বৎসর বয়সের শরীরে ডিএনএর জিনোম পরির্বতন করা অনেক কঠিন।

>> আমরা যদি সিলিকন ভ্যালীর দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পারব কমবেশি বাজারের চাপে প্রযুক্তিগত উন্নয়নগুলো ঘটছে। এর পরিবর্তন হওয়া দরকার আছে কি?
> উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা পৃথিবীর বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টের নেতৃত্ব দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলি, গুগল একটা ’কালিকো’ নামের কোম্পানি দাঁড় করিয়েছিল। যার উদ্দেশ্য ছিল মৃত্যু ঠেকানো। আমরা জানি যে, গুগল অনেক ভেবেচিন্তে কাজ করে, আর তাদের অনেক টাকা আছে। মৃত্যুকে জয় করার ব্যবসায়ে তারা একা নয়। অন্তত এই সিলিকন ভ্যালিতে সমতাকে বিদায় দিয়ে অমরত্বকে গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার প্রথাগত রাজনীতির বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে আর ব্যক্তিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো সমকালের সবচেয়ে গুরুত্বর্পূণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার বাস্তবায়নে ব্যস্ত রয়েছে।

>> এসবকে আটকানোর কোন পরিকল্পনা আপনার আছে কি?
> প্রথম পদক্ষেপ হল রাজনীতিকে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হতে হবে। বেশিরভাগ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশ শতকীয় রাজনীতির মতো। সেই ডান বনাম বাম, গণতন্ত্র বনাম স্বৈরতন্ত্র, পুঁজিবাদ বনাম সমাজতন্ত্র। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সমস্যার একটি হল বায়োটেকনলজি আর অন্যটি হল কম্পিউটার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। একুশ শতকে শরীর ও মন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে পরিণত হতে যাচ্ছে। শরীর ও মনের বিনির্মাণ করার সামর্থ্য আমাদের সমাজ ও অর্থনীতিতে বিপ্লব এনে দেবে। যেমন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চাকরির বাজারকে তছনছ করে দেবে।

>> সেটা কীভাবে?
> কয়েকজন বিশেষজ্ঞ উপাত্ত উপস্থাপন করে দেখিয়েছেন যে অগ্রসর সমাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী ২০-৩০ বৎসরের মধ্যে চাকরি বাজারের ৫০ ভাগ দখল করবে। একুশ শতকের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন হওয়া উচিত এর ফলে বেকার হয়ে যাওয়া অপ্রয়োজনীয় মানুষগুলোর সাথে কী করা হবে? আমাদের এক হাতে আছে স্বল্পসংখ্যক আপগ্রেডেড মানুষ ও অন্য হাতে থাকছে অসংখ্য অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে অব্যবহৃত মানুষ। বিশ শতকে জনগোষ্ঠীকে শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হত এই ভেবে যে, লক্ষ লক্ষ মানুষ সামরিক বাহিনি অথবা কারখানায় কাজ করবে। সে যুগের অবসান ঘটে গেছে। অত্যাধুনিক সামরিক বাহিনিতে এখন লক্ষ লক্ষ নতুন সৈনিকের দরকার নেই। তাদের দরকার খুব অল্প সংখ্যক বুদ্ধিমান মানুষ ও সেই সঙ্গে অ্যালগরিদম, রোবট বোমা ও ড্রোন।

>> শিল্প বিপ্লবের সময় কারখানাগুলো ব্যাপক বেকারত্বের সৃষ্টি করবে বলে মানুষ ভয় পেয়েছিল। তবুও র্অথনীতিতে এমন সব চাকরি তৈরি হয়েছে যে, যার কথা আগে স্বপ্নেও ছিল না। যেমন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। এমনটা কি আবারও ঘটবে না?
> এটা অবশ্যই একটা বিকল্প সুযোগ; এবং আমরা হয়তো একেবারে নতুন ধরনের চাকরি তৈরি করব। তারপরও এখানে দুটো সমস্যা আছে। প্রথমত, নিজেকে নতুন কিছু শেখানো মানুষের জন্য সহজ নয়। আপনি যদি ৫০ বৎসর বয়স্ক একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার হন, যিনি চাকরি থেকে বিমুক্ত হয়েছেন, কারণ অ্যালগরিদম মানুষের চাইতে ভালভাবে গাড়ি চালাতে পারে; তাহলে আপনার নিজেকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার হিসেবে দেখা বেশ কঠিন হবে। পরিবর্তন খুব দ্রুত হচ্ছে। অতএব আপনি যদি নিজেকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার হিসেবে দেখতেও পারেন, তবু কয়েক বৎসর পরে আবারও সবকিছু প্রথম থেকে শুরু করতে হতে পারে। দ্বিতীয় এবং বড় সমস্যা হল, পর্যাপ্ত নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার আশায় বিশ্বাস করাটা শুধু শুভকামনা মাত্র। মানুষের মূলত দুই প্রকারের দক্ষতা আছে। শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক। শিল্পবিপ্লবের সময় শারীরিক শ্রম লাগে এমন চাকরিগুলো বিভিন্ন যান্ত্রিক প্রযুক্তি দখল করেছিল। যেসব কাজে বুদ্ধি লাগে মানুষ সেখানে সরে গেছে। যদি এবং যখন কম্পিউটার বুদ্ধিতে আমাদের ছাড়িয়ে যাবে, মানুষ পারে এমন আর কোন তৃতীয় দক্ষতার কথা আমাদের জানা নেই। শিল্পবিপ্লবের সময় ঘোড়াদের যে পরিণতি হয়েছিল, আমরা তেমন পরিস্থিতিতে পড়তে যাচ্ছি। তখন ঘোড়া কোন নতুন কাজ পায়নি, তারা অর্থনীতির কাছে অযোগ্য হয়ে গিয়েছিল।

>> সৃষ্টিশীল হওয়া কি কম্পিউটারের পক্ষে সম্ভব?
> যারা সৃষ্টিশীলতা নিয়ে পড়াশোনা করেন তারা বলেন যে, সৃষ্টিশীলতা হল মূলত কিছু একই ধাঁচ বা ছাঁচ বা বিন্যাসের উপযুক্ত অনুধাবন মাত্র। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট অবয়বকে মানুষের চেয়ে যথাযথভাবে উপলব্ধি করানোর জন্য কম্পিউটারকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। যদি সফলতা আসে, তাহলে অ্যালগরিদম হয়ত মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে, এমনকি সৃষ্টিশীলতায়, এই ধরুন আগামী ২০, ৩০ অথবা ৪০ বৎসরের মধ্যে।

>> সোশাল মিডিয়া দিয়ে আমাদের সম্পর্কে বেশি বেশি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ সম্পর্কে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত নয় কি?
> প্রযুক্তির প্রয়োজনে আমাদেরকে ব্যবহৃত হতে না দিয়ে আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে প্রযুক্তি ব্যবহার করা দরকার। এই মুহূর্তে এটা কঠিন, কারণ বেশিরভাগ মানুষ তাদের নিজেদের প্রয়োজন সম্পর্কে নিশ্চিত নয়। আমরা এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছি যেখানে গুগল এবং ফেসবুক আমরা নিজের সম্পর্কে যা জানি তার চাইতে আমাদের সম্পর্কে বেশি জানে। এটা স্বাতন্ত্র্যচেতনার মূল্যবোধ এবং আমি নিজেকে অন্যদের চাইতে বেশি চিনি এমন অনুধাবনকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। একসময় আমাদের কেউ একজন ছিল যে আমাকে আমার নিজের চাইতে বেশি চিনত, এটা সহজে নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রহণ করা যেত। তাছাড়া সেই মানুষটি আমার কোনো সাধারণ বা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়ারও অধিকারী ছিল। আজকাল, যখন আমরা কারও সাথে প্রেম বা বিবাহের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, তখন নিজের অনুভূতি ও প্রবণতাকে ভিত্তি ধরছি। এটা অবৈজ্ঞানিক এবং প্রায়শই আমরা ভুল করছি। কিন্তু আমাদের আর কোন বিকল্প নেই। কিন্তু যদি গুগল আমাদের সব ইমেইল পড়ে এবং ফোনের কথোপকথনে আড়ি পাতে এবং বায়োমেট্রিক যন্ত্র দিয়ে নিরন্তর হৃৎস্পন্দন এবং রক্তচাপ মাপে এবং এই বিশাল তথ্যকে বিশ্লেষণ করার জন্য গুগল যদি কোন অ্যালগরিদমের উন্নয়ন ঘটায়, তাহলে তা আমাদের সম্পর্কে অপেক্ষাকৃত বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা নিজেদের সম্পর্কে যে সিদ্ধান্ত নিতাম তার চাইতেও বেশি যৌক্তিক হবে সেটা।

>> অর্থাৎ সোশাল মিডিয়া একুশ শতকের ঈশ্বরে পরিণত হতে যাচ্ছে?
> এভাবে চললে সোস্যাল মিডিয়া ঈশ্বরে পরিণত হবে। মধ্যযুগে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্য আপনি সৃষ্টিকর্তাকে প্রশ্ন করতেন। আর আজ, যখন আমরা কাকে বিয়ে করব, কোথায় কাজ করব, কোথায় থাকব ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হই, তখন গুগলকে জিজ্ঞাসা করি, “গুগল, আমি কাকে বিয়ে করব?” এবং আপনার নিজের বিবেচনা থেকে যা পাবেন, তার চাইতে গুগলের সমাধান অপেক্ষাকৃত ভাল হওয়ার উপযুক্ত কারণ আছে।

>> বুঝতে পারছি, আপনি গুগলে খোঁজাখুঁজি করার চাইতে বেশি ধ্যান করেন। সত্যি কি?
> আমি প্রতিদিন দুই ঘণ্টা ধ্যান করি। ছুটিতে আমি ৩০ বা ৬০ দিনের জন্য আত্মগোপন করি। বই, গুগল বা ফেসবুক বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ নীরব থাকি।

>> ওই সময় কি এই জগত ও সময়ের বেড়াজাল থেকে আপনি চিন্তামুক্ত থাকেন?
> আমি সেরকম কোনো চেষ্টা করি না। আমার ধ্যান করার উদ্দেশ্য হল নিজেকে পর্যবেক্ষণ করা। কোন বিশেষ বিষয় নিয়ে চিন্তা করা না, শরীর ও মনের প্রাথমিক স্তরের বাস্তবতাকে জানার চেষ্টা করা। যদি আপনি সকল গল্প, সকল তত্ত্ব, সকল দর্শনকে একপাশে রেখে দেন, এই শরীর ও মনের বাস্তবতা কী হবে? সাধারণ অবস্থায় এই বাস্তবতাকে আপনি অনুধাবন করতে পারবেন না। কারণ চারপাশে অনেক কিছু সবসময় ঘটে চলেছে। কিন্তু একটা সময়কাল ধরে আপনি যদি সম্পূর্ণ নির্বাক থাকেন, তাহলে আপনি শরীর ও মনের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারবেন। আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন হল মনের ভিতরে থাকা কোন গল্প নয়, বরং কোনটা বাস্তবতার প্রকৃত স্বরূপ সেটা জানা?

>> আপনি পণ্ডিতদের মতো লেখেন না। সহজ ও দ্ব্যর্থহীন লেখার ভঙ্গি কোত্থেকে শিখেছেন?
> প্রধানত আন্ডারগ্রাজুয়েট ছাত্রদের শিক্ষকতা করতে গিয়ে। জেরুজালেমে অবস্থিত হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে কথোপকথনের ফলে ‘সেপিয়েন্স’ লিখিত হয়েছে। যদি আপনি জটিল ও কেতাবি ভাষায় কিছু লিখে দেখেন, তা কেউ বুঝছে না, তখন আপনাকে তা সহজবোধ্য করার চেষ্টা করতে হবে। সহজবোধ্য করতে গিয়ে যখন আপনি বুঝবেন যে, যা বলছেন তা আপনি নিজেই আগে বোঝেন নি, তখন ‘জটিল ও উচ্চমার্গীয় পাণ্ডিত্যপূর্ণ ভাষা’র আড়ালে তাকে ঢেকে রাখবেন। যখন আপনার চলিত ভাষা ও সাধারণ উদাহরণ দেয়ার প্রয়োজন হবে, তখন তা আপনাকে কঠিনভাবে চিন্তা করতে চাপ দেবে, মনে হবে – ‘আমি মানুষকে আসলে কী বলার চেষ্টা করছি’। এই বই লেখার আগে আমি সাত কি আট বৎসর ধরে ইতিহাসের ভূমিকা বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছি।

>> আপনার পরের বইয়ের বিষয় কি?
> এটা প্রধানত ২১ শতকে মানুষের করণীয় প্রসঙ্গে। ‘হোমো ডিউস’ নাম দিয়ে কাজ চলছে। তবে তার পরিবর্তন হতে পারে।

>> মানুষই ঈশ্বর?
> হ্যাঁ, আমরা নিজেদেরকে সৃষ্টিকর্তার পর্যায়ে উন্নীত করছি।

সূত্র : দ্যা ওর্য়াল্ড টুডে, অক্টোবর-নভেম্বর, ২০১৫

    Leave feedback about this

    • Rating

    PROS

    +
    Add Field

    CONS

    +
    Add Field
    X